বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

চঞ্চল সাহা, আপন নিউজঃ কলাপাড়ায় তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা করোনার টিকা দিতে এসে না পাওয়ায় চরম বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ভুলের কারনে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকার অভিভাবকরা মনে করছেন।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়ী করলেও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দায়ী করেছেন প্রধান শিক্ষকদের। এমন বিশৃংখলা দেখে অনেক শিক্ষার্থী টিকা না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ী ফিরে গেছে। এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে শতশত শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পৌরশহর সহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মোট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬৬টি। এর মধ্যে স্কুল ৩৩টি, মাদ্রাসা ২৭টি ও কলেজ ৬টি। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২১ হাজারের অধিক।
মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) কলাপাড়া পৌরশহরের নেছারউদ্দিন সিনিয়র মাদ্রাসা, সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ দিন টিকা দেয়ার তারিখ নির্ধারন করে দেয়। এ তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা অন্ততঃ তিন হাজার। মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে এ তিনটি প্রতিষ্ঠানের অন্ততঃ দেড় হাজার শিক্ষার্থী একই সময় টিকা নিতে গেলে চরম বিশৃংখলার র্সষ্টি হয়। এতে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের অনেকে ঘন্টার ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও টিকা না পেয়ে বাড়ী ফিরে গেছে। এতে অনেক অভিভাবক শিক্ষকদেরও দায়ী করেছেন।
এ ব্যাপারে ফিরে আসা শিক্ষার্থীরা তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন’ আমাদের স্যারেরা যে ভাবে বলছে,আমরাও সেই ভাবে হাসপাতালে আসছি। রোদের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও টিকা দিতে পারিনি। ফলে বাড়ী ফিরে আসি।
কলাপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আনোয়ার হোসেন জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা যে ভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, সে ভাবেই শিক্ষকরা কাজ করে বিপাকে পড়েছে। তার স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও টিকা দিতে পারেনি। অনুরূপ অভিযোগ করেছেন সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমও। তারা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অব্যবস্থাপনা বলে উল্লেখ করেন।
মাধ্যমিক শিক্ষাকর্মকর্তা মো.মোকলেছুর রহমান জানান, তিনি প্রধান শিক্ষকদের যে ভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, তারা সে ভাবে কাজ করেননি বলে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট মো.ফারুকুল ইসলাম জানান, শৃংখলা থাকলে একদিনে দু’হাজার শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া সম্ভব ছিল । তবে হুড়োহুড়ির কারনে ৯৩০ জনকে দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার জানান, শিক্ষক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ভুল বোঝাবুঝির কারনে এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, মো.গোলাম মোস্তফা নামে এক শিক্ষার্থী অভিভাবক জানান, ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার শিক্ষকদের উপর তারা তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারনে এমন ঘটনা ঘটেছে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply